সরকারি আজিজুল হক কলেজে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:৫৩ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০২১ শনিবার

ফাইল ছবি
‘আমরাই পারি’ উদ্যোগে স্বনামধন্য সরকারি আজিজুল হক কলেজে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় বগুড়ায় অবস্থিত স্বনামধন্য সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।
‘আমরাই পারি’ জোটের উদ্যোগে এবং ইউএন ওমেন ও গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরাই পারি’ জোটের চেয়ারপারসন এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবদুল কাদের, আমরাই পারি জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক, সরকারি আজিজুল হক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর উম্মল খায়ের মোছা. গুলশান আরা বানু, গণিতের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মাহতাব হোসেন মন্ডল এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ সফির আহম্মদ। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেছে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মরিয়ার রহমান সাজু।
২০০৯ সালের হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা এবং কমিটি গড়ে তোলার কথা থাকলেও, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং তদারকির অভাবে এখনও বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নীতিমালা কার্যকরী ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইউএন ওমেনের সহযোগিতায় ‘কম্ব্যাটিং জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স’ প্রজেক্টের অধীনে আমরাই পারি জোট বগুড়া, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী এই তিনটি জেলায় মোট ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালা এবং কমিটি গড়ে তোলার কাজ করছে। আর তারই পথ ধরে আজ বগুড়ার স্বনামধন্য সরকারি আজিজুল হক কলেজ এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বক্তব্য প্রদানের সময় আমরাই পারি’র নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক বলেন, ‘নীতিমালা শুধু কাগজে থাকবে না, মগজে থাকবে। এই নীতিমালা শিক্ষার্থীদেরকে পরিপূর্ণ ভাবে সহায়তা করবে তাদের নিজস্ব ধারণাগত উন্নয়নের জন্য। একজন শিক্ষার্থী যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিরাপদ বোধ না করে সেজন্য এই নীতিমালা কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।’
সরকারি আজিজুল হক কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল কাদের বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে পুরুষতান্ত্রিকতার মধ্য দিয়ে এই সমাজ চলে আসছে। ওভারনাইট তা ভাংগবে না, কিন্তু অবশ্যই ভাঙ্গবে। সেজন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের হতে হবে অসাম্প্রদায়িক, উদার মানবচেতনায় বিশ্বাসী, অগ্রমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মননশীল।’
আলোচ্য কর্মসুচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে আমরাই পারি জোট এর চেয়ারপারসন এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বক্তব্যে উল্লেখ করেন ‘একটা সমাজের সভ্যতার স্তর নির্মিত হয় সেই সমাজে মানুষেরা কতটুকু অধিকার, নিরাপত্তাবোধ এবং মর্যাদা নিয়ে বাস করতে পারে তার উপর।’ তিনি বলেন, ‘কেউ যদি লিংগীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানির শিকার হয়ে থাকে, সেইটিই যৌন হয়রানি। আমরা এমন পারিবাহিক আবহে বেড়ে উঠি যে, বুঝতেও পারিনা আমাদের বিভিন্ন আচরণ অন্যকে কষ্ট এবং অস্বস্তি দিয়ে থাকতে পারে। এই নীতিমালাটি আমাদের দিকনির্দেশনা দিবে, আমাদের আদর্শিকতার মাত্রা নির্মাণে সহায়ক হয়ে উঠবে।’ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তরুণদেরকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সৎ এবং যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে আদর্শ মানুষ হয়ে উঠার মন্ত্রণা দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ শাজাহান আলী সমাপনী বক্তব্য পেশ করেন এবং প্রধান অতিথির মাধ্যমে সরকারী আজিজুল হক কলেজের যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। প্রতিটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছে এই নীতিমালা অতিস্বত্তর পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অধ্যক্ষ আশ্বাস দেন।