ঢাকা, শুক্রবার ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:৩৫:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্টিকেল নাইনটিনের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:১৯ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারের সাথে মানবাধিকার সংগঠনের ইতিবাচক সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে আর্টিকেল নাইনটিনের আয়োজনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তথা মানবাধিকারের সুরক্ষা ও প্রসারে সরকারের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আর্টিকেল নাইনটিন এই সভা আয়োজন করে।

আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এ জেড এম নাফিউল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রফিকুল ইসলাম এবং ডিএমপি গুলশান বিভাগের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এডিসি এসএম রেজাউল হক। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনামুল হক সাগর ও মো. আবু ইউসুফ, আর্টিকেল নাইনটিনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মরিয়ম শেলী এবং প্রোগ্রাম সহযোগী সাবরিনা মমতাজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আর্টিকেল নাইনটিনের পরামর্শক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি।

আলোচনায় বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, পুলিশ-সাংবাদিক সম্পর্কের নানা দিক, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সুরক্ষা, পুলিশের মানবাধিকার, অনলাইন সাংবাদিকতা বিষয়ক নীতিমালা ও মিডিয়া হাউসগুলোতে সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের চর্চা প্রভৃতি বিষয় উঠে আসে। বক্তারা মানবাধিকারের সুরক্ষা ও প্রসারে পুলিশ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের সমন্বিত ‍উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাদের মতে, আইন ও মানবাধিকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা-বোঝার ক্ষেত্রে পুলিশ-সাংবাদিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি করা জরুরী। এক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  

পুলিশের ডিআইজি এ জেড এম নাফিউল ইসলাম অনুষ্ঠানে বলেন, ’’কর্মক্ষেত্রে পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের সহযোগী, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে কোন আইনি তৎপরতার ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।’’ 

এডিসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘’আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও মানবাধিকার রয়েছে। অথচ দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের মানবাধিকারের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই চাপা পড়ে যায়।‘’ তিনি পেশাগত ক্ষেত্রে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার মনোভাব তৈরির ওপর জোর দেন।

ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম কমাতে সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এডিসি এসএম রেজাউল হক বলেন, ’’সত্যিকার সাংবাদিকতা যারা করেন, তাদের মর্যাদার স্বার্থেই ভুয়া সাংবাদিক চিহ্নিত করা জরুরী।’’

কোন নেতিবাচক ঘটনা ঘটলেই এর দায় সবসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের ওপর চাপিয়ে দেয়া অনুচিত বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি। তিনি বলেন, ‘’মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোন বিকল্প নেই। তাই দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং পেশাগত কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।’’

সভাপতির বক্তব্যে ফারুখ ফয়সল বলেন, ’’মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, সহযোগী। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ মানবাধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা সম্ভব।’’ তিনি বলেন, ’’টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সকলের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই লক্ষ্যে আর্টিকেল নাইনটিন সরকার, নাগরিক অংশীজন ও  সংগঠনের মধ্যে ইতিবাচক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।’