পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক সম্প্রীতি-বহুত্ববাদ চর্চার কেন্দ্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:৩৫ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি
আর্টিকেল নাইনটিনের আয়োজনে এক রেডিও অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, শিশু-কিশোরদের মানসিকতা গঠনে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি এবং বহুত্ববাদের চর্চা হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি হবে। এজন্য আলোচকরা অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২) মৌলভীবাজারে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত কমিউনিটি রেডিও পল্লীকণ্ঠে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠান সরাসরি (Live) প্রচারিত হয়।
আলোচনায় অংশ নেন নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক শাহনাজ শারমীন, মৌলভীবাজার হাফিজা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাধুরী মজুমদার, তরুণ সংস্কৃতি কর্মী ডোরা প্রেন্টিস এবং আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেডিও পল্লীকণ্ঠের স্টেশন ইনচার্জ মেহেদী হাসান। সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, বহুত্ববাদ, অন্তর্ভুক্তি এবং সহনশীলতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সংলাপ আয়োজন করছে আর্টিকেল নাইনটিন। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রেডিও পল্লীকণ্ঠে অনুষ্ঠানটি করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন বলেন, ’’মূলধারার গণমাধ্যমে অবাধ তথ্য প্রবাহ না থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধমে গুজব ছড়াবেই। সঠিক তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ হলে সহিংসতা ও উসকানির অনেক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।‘’
ফারুখ ফয়সল বলেন, ”অনলাইনে অপতথ্য, ভুয়া খবর ও ঘৃণা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ব্যাপকতা সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সোশাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার জানার পাশাপাশি মতপ্রকাশ, যার যার ধর্ম বিশ্বাস ও রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।‘’ সম্প্রীতির মনন গঠনে পারিবারিক শিক্ষা ও বিদ্যায়তনিক পরিবেশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মাধুরী মজুমদার বলেন,”শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় উৎসব সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ‘’
তরুণ সংস্কৃতি কর্মী ডোরা প্রেন্টিস বলেন,”বর্তমানে ইন্টারনেট ধর্মভিত্তিক আক্রমণের পাশাপাশি লিঙ্গভিত্তিক আক্রমণের ঘটনাও ব্যাপকভাবে বাড়ছে।” দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায় তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এসব আক্রমণ কমে আসবে বলে মত দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আলোচকদের পাশাপাশি ফেসবুকে প্রচারিত লাইভে কমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন দর্শক-শ্রোতারা। শ্রোতাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যা ৬ টায় রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠানটি পল্লীকণ্ঠে পুন:প্রচার করা হবে।